দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান জীবনের প্রবাহমানতা সাজেশন 2023
প্রাণীকোশে মাইটোসিসে প্রোফেজ ও অ্যানাফেজ দশার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
প্রাণীকোশে প্রোফেজ দশার বৈশিষ্ট্য
প্রাণীকোশে প্রোফেজ দশার বৈশিষ্ট্যগুলি হল—[1] জল বিয়োজনের ফলে নিউক্লিয়াসের নিউক্লীয় জালক বা ক্রোমাটিন থেকে সূত্রাকার ক্রোমোজোম গঠিত হয়। প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে ভাগ হয়ে দুটি ক্রোমাটিড গঠন করে। [2] এই সময়ে নিউক্লিওলাসটি ক্রমশ ছোটো হতে থাকে এবং প্রোফেজের শেষ পর্যায়ে নিউক্লিওলাসটি বিলুপ্ত হয়। [3] দুটি করে সেন্ট্রিওল-বিশিষ্ট একজোড়া সেন্ট্রোজোম পরস্পরের থেকে ক্রমশ দূরে সরে যায় এবং নিউক্লিয়াসের দুই বিপরীত মেরুতে পৌঁছোয়।
প্রাণীকোশে অ্যানাফেজ দশার বৈশিষ্ট্য
প্রাণীকোশে অ্যানাফেজ দশার বৈশিষ্ট্যগুলি হল—[1] এই দশার শুরুতেই ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারগুলি সমান দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে একটি ক্রোমাটিডসহ দুটি অপত্য ক্রোমোজোম গঠন করে। অপত্য ক্রোমোজোমগুলি বেমতন্তুর সংকোচন ও প্রসারণের ফলে বেমের দুটি বিপরীত মেরুর দিকে যাত্রা শুরু করে। ক্রোমোজোমের এইরূপ চলনকে ক্রোমোজোমীয় চলন বা অ্যানাফেজীয় চলন বলে। [2] এই দশার শেষে ক্রোমোজোমগুলি ইংরেজি ‘V’, ‘L’, ‘J’, ‘I’ অক্ষরের মতো দেখায়।
প্রশ্ন:- উদাহরণসহ অযৌনের পদ্ধতিগুলি লেখো
উত্তর :- উদাহরণসহ অযৌন জননের পদ্ধতি
অযৌন জননের কয়েকটি পদ্ধতি ও তার উদাহরণ হল–
[1] বিভাজন দেখা যায় অ্যামিবাও প্লাসমোডিয়াম এর মতো এককোশী জীবে। এক্ষেত্রে এককোশী জীবটির মাতৃকোশ মাইটোসিস বা অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে এক বা একাধিক সম-আকৃতির অপত্যের সৃষ্টি হয়। [2] কোরকোগম দেখা যায় ঈস্ট নামক এককোশী ছত্রাকে ও হাইড্রা নামক বহুকোশী প্রাণীতে। এক্ষেত্রে জনিতৃ জীবের দেহ থেকে উৎপন্ন উপবৃদ্ধি বা কোরক স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপত্য জীব সৃষ্টি করে। [3] খণ্ডীভবন দেখা যায় স্পাইরোগাইরা নামক সূত্রাকার শৈবালে। এই পদ্ধতিতে জনিতৃ জীবদেহটি ভেঙে ছোটো ছোটো খণ্ডে পরিণত হয়। প্রতিটি খণ্ডাংশই পুনরায় বিভাজিত ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে নতুন অপত্য সৃষ্টি করে। [4] রেণু উৎপাদন দেখা যায় ছত্রাক, মস এবং ফার্নে। এক্ষেত্রে জনিতৃ জীবদেহ থেকে সৃষ্ট এককোশী রেণু জনিতৃ দেহের আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে ও তা থেকে নতুন অপত্য সৃষ্টি হয়। [5] পুনরুৎপাদন দেখা যায় প্ল্যানেরিয়া নামক প্রাণীতে। এই অযৌন জনন পদ্ধতিতে জনিতৃ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন দেহাংশ থেকে নতুন অপত্য সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন :- রেখাচিত্রের সাহায্যে ফার্নের জনুক্রম ব্যাখ্যা করো।
উত্তর :-
রেখাচিত্রের সাহায্যে ফার্নের জনুক্রম ব্যাখ্যা
রেণুধর জনুতে রেণুস্থলীতে মিয়োসিস পদ্ধতিতে রেণুমাতৃকোশ (2n) থেকে হ্যাপ্লয়েড রেণু তৈরি হয়, যা অঙ্কুরোদ্গমের ফলে লিঙ্গধর জনু সৃষ্টি হয়। এই জনুতে স্ত্রীধানী ও পুংধানী যথাক্রমে স্ত্রীগ্যামেট ও পুংগ্যামেট তৈরি করে। জননকোশের মিলনে জাইগোট (2n) তৈরি হয় যা রেণুধর জনুর সূচনা করে। এইভাবে জীবনচক্রে জনুক্রম ঘটে থাকে।


कोई टिप्पणी नहीं:
एक टिप्पणी भेजें